| বঙ্গাব্দ

২০২৬-২৭ বাজেটে আসছে 'সম্পদ কর' | সারচার্জ প্রথা বাতিলের পরিকল্পনা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 17-04-2026 ইং
  • 17964 বার পঠিত
২০২৬-২৭ বাজেটে আসছে 'সম্পদ কর' | সারচার্জ প্রথা বাতিলের পরিকল্পনা
ছবির ক্যাপশন: সম্পদ কর

বাজেটে বড় পরিবর্তন: সারচার্জ উঠে যাচ্ছে, আসছে ‘সম্পদ কর’

লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]

সরকার আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিদ্যমান সারচার্জ প্রথা বাতিল করে জমি বা সম্পদের বাজারমূল্যের ভিত্তিতে ‘সম্পদ কর’ চালুর পরিকল্পনা করছে। রাজধানীর গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি এবং চট্টগ্রামের খুলশী ও আগ্রাবাদের মতো অভিজাত এলাকার উচ্চসম্পদশালী ব্যক্তিদের কাছ থেকে ন্যায্য কর আদায় করতেই এই উদ্যোগ। এনবিআর ইতোমধ্যে সম্পদ কর আইন ও বিধিমালার খসড়া প্রস্তুত করেছে।

১. সারচার্জ ও সম্পদ করের মূল পার্থক্য

বর্তমানে প্রদেয় আয়করের ওপর একটি নির্দিষ্ট হারে সারচার্জ দিতে হয়। কিন্তু প্রস্তাবিত নতুন নিয়মে করদাতার মোট স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মূল্যের ওপর কর নির্ধারিত হবে। সম্পদের সীমা আগের মতোই ৪ কোটি টাকা থাকছে, তবে গণনার পদ্ধতিতে আসবে বড় পরিবর্তন।

প্রস্তাবিত সম্পদ করের হার:

  • ৪ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা: সম্পদমূল্যের ০.৫০%।

  • ১০ কোটি থেকে ২০ কোটি টাকা: সম্পদমূল্যের ১.০০%।

  • ২০ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকা: সম্পদমূল্যের ১.৫০%।

  • ৫০ কোটি টাকার বেশি: সম্পদমূল্যের ২.০০%।

২. করদাতার ওপর প্রভাব: একটি উদাহরণ

এনবিআর কর্মকর্তাদের মতে, এই কর কোনোভাবেই করদাতার বার্ষিক প্রদেয় করের চেয়ে বেশি হবে না।

  • উদাহরণ: ধরুন ‘ক’ নামক ব্যক্তির বার্ষিক আয়কর ১ লাখ টাকা এবং তাঁর সম্পদের মূল্য ৬ কোটি টাকা। নতুন নিয়মে তাঁর সম্পদ কর দাঁড়ায় ৩ লাখ টাকা (৬ কোটির ০.৫০%)। কিন্তু যেহেতু এটি প্রদেয় করের বেশি হবে না, তাই তাঁকে সম্পদ কর হিসেবে ১ লাখ টাকাই দিতে হবে। ফলে তাঁর মোট কর হবে ২ লাখ টাকা (আয়কর ১ লাখ + সম্পদ কর ১ লাখ)।

৩. মৌজামূল্যে নির্ধারণ ও রাজস্ব বৃদ্ধি

বর্তমানে অনেক সম্পদশালী ব্যক্তি দলিল মূল্যের কম হওয়ার সুযোগ নিয়ে কর ফাঁকি দেন। নতুন ব্যবস্থায় দলিল মূল্যের পরিবর্তে জমির বাজারমূল্য বা মৌজামূল্য বিবেচনা করা হবে। উদাহরণস্বরূপ, ৯০-এর দশকে গুলশানে কম দামে কেনা জমির বর্তমান মৌজামূল্য কয়েক কোটি টাকা। ফলে ওই জমির মালিক এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পদ করের আওতায় আসবেন। এনবিআরের ধারণা, এটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব।

৪. বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও বিশেষজ্ঞ মতামত

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং ফ্রান্সের মতো উন্নত দেশগুলোতে জিডিপির ২ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত সম্পদ কর আদায় করা হয়। বাংলাদেশেও এই সংস্কৃতি চালু হলে বৈষম্য কমবে বলে মনে করছে এনবিআর।

তবে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ সতর্ক করে বলেন, “সম্পদের ভ্যালুয়েশন পদ্ধতি যেন সর্বজনগ্রাহ্য হয়। জোর করে কিছু চাপিয়ে দিলে সম্পদ গোপনের প্রবণতা বাড়তে পারে, যা অর্থনীতিতে কালো টাকার আকার বাড়াবে।”


বিডিএস পর্যবেক্ষণ: সারচার্জের বদলে সম্পদ কর প্রবর্তন একটি বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত হতে পারে। এটি কেবল রাজস্বই বাড়াবে না, বরং সমাজের অতি ধনীদের কাছ থেকে বেশি কর আদায়ের মাধ্যমে সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। তবে মাঠ পর্যায়ে এর বাস্তবায়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।


এক নজরে সম্পদ করের প্রস্তাবনা:

ক্যাটাগরিসম্পদের সীমাবর্তমান নিয়ম (সারচার্জ)প্রস্তাবিত নিয়ম (সম্পদ কর)
ভিত্তি৪ কোটি টাকার উপরেপ্রদেয় আয়করের ওপর ১০% - ৩৫%মোট সম্পদ মূল্যের ওপর ০.৫০% - ২%
মূল্যায়ন-দলিল মূল্য (Purchase Value)বাজারমূল্য বা মৌজামূল্য

তথ্যসূত্র (Source):

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency